জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে ভালো চাকরি পাওয়া সম্ভব ?
আমার উত্তর হ্যাঁ সম্ভব , তবে এখানে কিন্তু আছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতে পাড়াটা অনেকের কাছে যেমন ভাগ্যের বেপার আবার আমাদের বাংলাদেশের অনেক ছাত্র ছাত্রির কাছে এইটা যেন নিত্তান্তই দুঃখের একটা বিষয় হয়ে উঠে । তবে এর যথেষ্ট কারণ ও রয়েছে। এটা বুঝার জন্য আমাদের আগে এটা বুঝতে হবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কারা এবং কি কি কারণে ভর্তি হয়।
আচ্ছা এবার তাহলে জানা যাক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কারা এবং কেন ভর্তি হয়।
আমি এখানে শিক্ষার্থী দের ৩ ভাগে ভাগ করবো।
১. মোটামুটি পড়াশুনা করে।
২. পাবলিক ভার্সিটি তে চান্স পায়নি।
৩. পড়াশুনার পাশাপাশি চাকরি করার জন্য।
এবার এই ৩ ধরনের শিক্ষার্থী কে একটু বর্ণনা করি চলো। প্রথমেই কিছু শিক্ষার্থী থাকে যাদের মূল টার্গেট ই থাকে তারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করবে, তারা মূলত একটু মিডিয়াম ধরণের শিক্ষার্থী হয়। তবে কিছু ব্যতিক্রমে অনেক ভালো শিক্ষার্থী হয়ে থাকে। এরা এদের পড়াশুনা নিয়ে মোটামুটি সিরিয়াস থাকে। এদের টার্গেট থাকে একটা সরকারি চাকরি । যদি সোজা সাপটা বলি বলা যায় যে ভাবেই হোক একটা সরকারি চাকরি এদের লাগবেই।কয়েক জন বিসিএস টার্গেট করে, তারপর প্রাইমারি হাইস্কুল শিক্ষকতা , ব্যাংক , উপজেলা, ভুমি,সচিবালয় বিশেষ করে দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরি গুলো এদের প্রথম পছন্দ।
দ্বিতীয় তে আছে যারা পাবলিক ভার্সিটি তে চান্স পায়নি , সপ্ন তো এদের বড় ছিল কিন্তু নিয়তি হোক বা তাদের পরিশ্রম তাদের কে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে দেয়নি। তাই শেষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কে ঢাল বানিয়ে জীবন যুদ্ধে এগিয়ে যেতে চায় এরা। এরা এদের পড়াশুনা নিয়ে সিরিয়াস থাকে।এদের প্রধান টার্গেট থাকে সরকারি চাকরি এদের ভিতর বেশিরভাগ শিক্ষার্থী বিসিএস প্রিপারেশন নেয় । এবং একটা ভালো সরকারি চাকরি নিজের জন্য সিকিউর করার জন্যই পড়ালেখা চালিয়ে যায় ।
এখন আলোচনা করা যাক যারা পড়াশুনার পাশাপাশি চাকরি করার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে থাকে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার অন্যতম সুভিধা হল রেগুলার ক্লাস না করে সুধু এক্সাম দিয়ে পড়াশুনা চালিয়ে নেওয়া যায় এই সেক্টরের শিক্ষার্থী রা মূলত একটা সার্টিফিকেট বের করতে হবে তাই ভর্তি হয়, আমি বলবো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়য় যত টুক দুর্নাম আছে অর্ধেকের পিছনে এদের কৃতি।
আশা করি উপরিউক্ত আলোচনা থেকে তোমরা বুঝতে পারবা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ধরনের শিক্ষার্থীরা কি চাকরি পাবার জন্য ভর্তি হয় । এবার বলবো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজের কিছু অযোগ্যতা।
- সিলেবাস, ট্রাস্ট মি অর নট এই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস অনেক Back dated বর্তমান চাকরির বাজারে যে প্রতিযোগিতা এই সিলেবাস শিক্ষার্থী দের সেই তুলনায় চাকরির বাজারের জন্য তৈরি করতে পারে না।
- শিক্ষক, এইটা একটা বিশাল বড় সমস্যা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ কলেজেই পর্যাপ্ত পরিমাণ শিক্ষক নেই।
- পড়ানোর নমুনা, প্রথম সাময়িক পরীক্ষার সিলেবাস শেষ হবে না কিন্তু ফাইনাল এক্সাম হয়ে যাবে কিছু কলেজ ছাড়া বেশিরভাগ কলেজে একই চিত্র দেখা যায়।
- অনুপুস্থিতি, শিক্ষার্থী দের অনুপুস্থিতি খুব কমন একটা বিষয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে, যার জন্য শিক্ষকদের অনিহা টাও বেরে যায়।
আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশন জট হতো কিন্তু এখন আর সেই সমস্যা নেই। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে এতে পড়ালেখার খরচ অনেক কম, এবং যারা মোটামুটি লেভেল এর পড়াশুনা নিয়ে খুশি থাকতে পারবে তাদের জন্য এইটা খুব ই ভালো বিষয় , এখান থেকে যে ভালো কিছু করা যায় না বিষয় টা কিন্তু এমন না , ভালো করা সম্ভব তবে সেখানে নিজের অনেক চেষ্টা থাকা লাগবে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বছর বছর যেমন লাখ লাখ ফেইল টুস বের হয় থিক ঠিক তার বিপরীতে অনেক শিক্ষার্থী অনেক ভালো ভালো যায়গা তে চাকরি পাচ্ছে ।
যদি তোমার ভিতর অনেক প্রত্যয় থাকে তাহলে তুমি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ও ভালো কিছু করতে পারবা। সরকারি চাকরি গুলো যদি তোমার লক্ষ্য হয় তাহলে এখানে পড়েও ভালো করা সম্ভব। কিন্তু প্রাইভেট কর্পোরেট কোম্পানি গুলা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শিক্ষার্থী দের কারিকুলাম ভিটা টাও দেখে না । তাই তোমার লক্ষে যদি প্রাইভেট কর্পোরেট কোম্পানি থাকে এই বিষয়ে তোমার ভাবা উচিত।
আশা করি আমি বুঝাতে পেড়েছি যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে ভালো চাকরি পাওয়া সম্ভব কি না। আর হ্যাঁ ভালোর সংজ্ঞা এক একজন এর কছে এক এক রকম , আমি এই ব্লগে ভালো চাকরি বলতে ১ লাখ এর আশে পাশে বেতন এমন চাকরি গুলো কে বুঝিয়েছি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে ভালো চাকরি নিয়ে যদি কোন প্রশ্ন থাকে কমেন্ট করতে পারো, আমি উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো।
#nationaluniversity #nationaluniversityjob #goodjobfromnu